
✦ কলেজ পরিচিতি
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এলেঙ্গা পৌরসভায় অবস্থিত সরকারী শামসুল হক কলেজ, এলেঙ্গা, কালিহাতী, টাঙ্গাইল – বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা টাঙ্গাইল জেলার অন্যতম শিক্ষা বাতিঘর হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে কলেজটির জন্ম এক বিশাল স্বপ্নের ভিত্তিতে, যেখানে এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষে এই কলেজটির অবদান অনস্বীকার্য।
এলেঙ্গা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর জন্য প্রয়োজন ছিল স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যমী, দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের। ঠিক এই সময়েই কিছু মহান ব্যক্তিত্ব তাদের দৃষ্টিশক্তি ও নেতৃত্বগুণ নিয়ে এগিয়ে আসেন, এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ আব্দুল হাকিম তালুকদার।
বর্তমানে সরকারী শামসুল হক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হয়। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং এর ফলাফল, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত। কলেজটির একটি বিস্তৃত ক্যাম্পাস, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

➤ শহীদ আব্দুল হাকিম তালুকদার – এক সাহসী স্বপ্নদ্রষ্টা
শহীদ আব্দুল হাকিম তালুকদার ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজসংস্কারক, যিনি শুধু রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন না, বরং শিক্ষা বিস্তারে অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, একটি জাতিকে মুক্ত ও সমৃদ্ধ করতে হলে আগে তাকে শিক্ষিত করতে হবে। তাঁর প্রচেষ্টা ছিল এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষও সহজে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
শুধুমাত্র লেখালেখির মধ্যেই তাঁর অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না—তিনি নিজ হাতে সংগঠন গঠন করেছেন, জনসচেতনতা তৈরি করেছেন, এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি, অর্থ এবং শ্রম সংগ্রহ করেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজও এ এলাকার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

➤ শামসুল হক – রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র
শামসুল হক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান তথা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার নাম অনুসারে ১৯৭২ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ আব্দুল হাকিম তালুকদার।
